[email protected] মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিধানসহ সংবিধানের আরও দুটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।

ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা সংসদ যাতে একতরফাভাবে এসব বিধান পরিবর্তন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

সভায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা অংশ নেন।

সংবিধানের প্রস্তাবনা, বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল নিয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ শোনা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো বিশেষ কমিটিতে আলোচনা করা হবে এবং গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিবেচনা করা হবে।

বিরোধী দলগুলোকেও কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা যোগ দিলে তাদের প্রস্তাব ও বক্তব্যও আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, মতপার্থক্য বা বিভক্তির পরিবর্তে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় সরকার। জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আলোচনার বাইরে থাকা বিষয়গুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের মধ্যে অগ্রাধিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহারে যেসব বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে, সেগুলোও সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

গণভোটের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের কিছু নির্দিষ্ট বিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধানে পরিবর্তন আনতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো সংসদ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে যাতে গণভোটের প্রয়োজন হয়, সে জন্য বিদ্যমান চারটি বিধানের সঙ্গে বিএনপির প্রস্তাব করা আরও দুটি বিধান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোট প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সেসব বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ কমিটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধনী বিল প্রস্তুত করা হবে। বছরের প্রথম অধিবেশন হিসেবে জানুয়ারির সংসদ অধিবেশনে বিলটি উপস্থাপনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর