[email protected] মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২:০৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং সরকারের ভাষায় ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

একই সঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা এখনো আইনের বাইরে রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ কাজে যারা সফল হবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। গত সপ্তাহে এ ধরনের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আগের দিন আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতদিন এসব ব্যক্তি দেশে অবস্থান করলেও তাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তথ্য যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি।

পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তা কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

বক্তব্যে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও গত ১৭ বছরের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জাতিসংঘের হিসাবের বরাত দিয়ে বলেন, এক মাসে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর বিভিন্ন পরিসংখ্যানের কথাও উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের বিষয়ে জনগণের অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ, অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি।

শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফেরানোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর