[email protected] সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে ৬৮ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৫ ৮:২২ এএম

ফাইল ছবি

উত্তর ইয়েমেনের সাদা প্রদেশে আফ্রিকান অভিবাসীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৬৮ জন নিহত এবং আরও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার হুথি আনসারুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ১১৫ জন আফ্রিকান অভিবাসীকে আশ্রয় দেওয়া একটি কেন্দ্র, যা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছিল।
ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে আশ্রয়কেন্দ্রের ভয়াবহ ধ্বংসচিত্র এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, হামলায় ব্যবহৃত একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়নি এবং তা নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।

এ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ইয়েমেনি বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে ১,২০০-রও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে ১,৩০০-রও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘নির্ণায়ক এবং শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং পরে তাদের ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকিও দেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনী লোহিত সাগর, আরব সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং এডেন উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী পশ্চিমা ও ইসরাইলি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইয়েমেনে একাধিক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে দেশটিতে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরাইলের ১৯ মাসব্যাপী গাজা অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫২,৩০০-রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার তথ্য অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিখোঁজদের অন্তর্ভুক্ত করলে মোট মৃতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর হুথিরা সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করেছিল। তবে গত মাসে ইসরাইল পুনরায় গাজায় বিমান হামলা শুরু করলে হুথিরা আবারও পশ্চিমা জাহাজ লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর