[email protected] রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে নার্সিংহোমের টয়লেটে সন্তান প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৬ ১:৪৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সদ্যোজাত কন্যাশিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উত্তরপাড়া পুরসভা এলাকার ওই নার্সিংহোমে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতককে উদ্ধারের আগেই তার মৃত্যু হয়।

 

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় পরিবারের সদস্যরা কিশোরীকে নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। পরদিন সকালে ব্যথা বেড়ে গেলে সে নিজেই হেঁটে শৌচাগারে যায়। সেখানেই কারও সহায়তা ছাড়াই একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয় ওই কিশোরী।

 

কিছুক্ষণ পর নার্সিংহোমের বাইরে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে এক পথচারী কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে একজন নার্স শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসাকেন্দ্রের ভেতরে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

পুলিশ জানায়, কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা ছিল—এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। পেটে ব্যথার চিকিৎসার জন্যই তাকে নার্সিংহোমে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তবে পরিবারের এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী দল।

 

নার্সিংহোমের মালিক সুচেতা মুখোপাধ্যায় জানান, শুক্রবার রাতে কিশোরীকে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে তার রক্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই পেটের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় সে শৌচাগারে যায় এবং সেখানে সন্তান প্রসব করে।

 

তার দাবি, ভর্তির সময় কিশোরীর পরিবারের কাছে গর্ভধারণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে স্বজনেরা এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছিলেন।

 

এদিকে কিশোরীর মা সাংবাদিকদের বলেন, মেয়ের গর্ভধারণের বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। পেটে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানানোর পরই তাকে চিকিৎসার জন্য নার্সিংহোমে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তারা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।

 

ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। এরই মধ্যে নার্সিংহোমের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিশোরীর বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে আগেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শঙ্খ শুভ্র ব্যানার্জি নামে এক বাসিন্দার দাবি, এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির চত্বর থেকে একটি ভ্রূণ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফ/ডি

সম্পর্কিত খবর