আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাগরিকদের সুরক্ষা জোরদারে
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত 'চেওংহে' (Cheonghae) জলদস্যু মোকাবিলা বাহিনীর তৎপরা বাড়ানো ও এলাকা প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সম্প্রতি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস (KBS) এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদসংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৈন্য সংখ্যা ও সরঞ্জাম বৃদ্ধি:
ইয়োনহাপ ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটে আরও ৭৫ জন নতুন সদস্য যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট সেনা সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩৯৫ জনে। এছাড়াও ইউনিটের সক্ষমতা বাড়াতে একটি পি-৮এ পোসেইডন (P-8A Poseidon) সামুদ্রিক টহল বিমান, চালকবিহীন মাইন-প্রতিরোধক সরঞ্জাম এবং একটি বিশেষ বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী (EOD) দল পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
কার্যক্রমের পরিধি ও অনুমোদন:
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটের অপারেশনাল এলাকা ওমানের দুকম বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এই এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ও প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট:
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং নিশ্চিত করেছেন যে, বিদেশি কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন কোনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়া গ্রহণ করবে না। মূলত সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের সুরক্ষা দিতেই এই অ-যুদ্ধভিত্তিক নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে এডেন উপসাগর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই 'চেওংহে' ইউনিট। প্রতি বছর আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই ইউনিটের কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়াতে হয়।
এইচ/এম