[email protected] শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহেদ-২৩৮: ইরানের ইরাদ্রুতগতির ড্রোনে নতুন চ্যালেঞ্জ আকাশ প্রতিরক্ষায়

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:১৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এর মধ্যে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-২৩৮’ ড্রোন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

তুলনামূলক কম ব্যয়ে তৈরি এই ড্রোনের উচ্চ গতি ও আঘাত হানার সক্ষমতা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

শাহেদ-২৩৮ মূলত ইরানের বহুল আলোচিত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ। নতুন মডেলটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়েছে ইঞ্জিনে।

শাহেদ-১৩৬-এ প্রপেলারচালিত পিস্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হলেও শাহেদ-২৩৮-এ সংযোজন করা হয়েছে কমপ্যাক্ট টার্বোজেট ইঞ্জিন।

ইরানের ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ’ ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো শাহেদ-২৩৮ প্রদর্শন করে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই এর সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের তথ্য সামনে আসে।

ড্রোনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি। শাহেদ-১৩৬-এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার হলেও শাহেদ-২৩৮ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আঘাত হানার শেষ পর্যায়ে এর গতি ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে বলেও দাবি করা হয়।

প্রায় সাড়ে তিন মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন মিটার ডানার বিস্তৃতির শাহেদ-২৩৮ সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম বলে জানা যায়। এতে সর্বোচ্চ ৫০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জেট ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে আগের মডেলের তুলনায় এর জ্বালানি ধারণক্ষমতা ও কার্যকর পাল্লায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে বেশি গতি পাওয়ায় লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সময় কমে যায়।

ফলে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষেত্রে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে।

কম খরচে উৎপাদনযোগ্য ড্রোনের সঙ্গে উচ্চগতির জেট প্রযুক্তির সমন্বয়ই শাহেদ-২৩৮-কে ইরানের ড্রোন সক্ষমতার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর