ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী
হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ ও আন্তরিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ভূমিকা পালন করে আসছে।
শাহবাজ শরিফ উল্লেখ করেন, এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার নিজের যৌথ স্বাক্ষরে 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে বিষয়গুলো কিছুটা জটিল আকার ধারণ করে।
পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা আশা ছেড়ে দিইনি। পাকিস্তান এই বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগ রাখছে। সংঘাত কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে এবং ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জনে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়। ওই সময় ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ উদ্যোগে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষকে স্থায়ী শান্তি আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি প্রাথমিক সময়সীমা ও রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের কিছুদিন পরেই উভয় দেশ পুনরায় একে অপরের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারেও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের প্রতিনিধি দল পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বৈঠক আরও অনুষ্ঠিত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাহবাজ শরিফ জানান, এটি একটি 'চলমান প্রক্রিয়া' এবং বিশ্বের সব বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
এসআর