রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সল্যুশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তবে অনির্দিষ্টকাল এককভাবে এ দায়িত্ব বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রথমত, প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সহিংসতা বন্ধ ও অধিকার নিশ্চিত: মিয়ানমারে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এতে প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তৃতীয়ত, মানবিক সহায়তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা: রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দিয়ে আসা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
চতুর্থত, বিচার ও জবাবদিহি: রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারিক ও তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।
পঞ্চমত, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ: মাদক ও মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারসহ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করে এমন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন। তার মতে, সংকটটির উৎপত্তি ও সমাধান—দুটিই মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল নয়।
২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় মানবিক সহায়তার বরাদ্দ কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর মাধ্যমে সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আড়াল করা উচিত নয়।
বাংলাদেশের প্রত্যাশা, রোহিঙ্গারা তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারবেন।
এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজ নিজ দায়িত্ব আরও কার্যকরভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এসআর