বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে তাঁর নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়। (United Nations)
বাংলাদেশের জন্য এ ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেল বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬ সালে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাসহ আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
নতুন সভাপতিকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর নেতৃত্বের ওপর আস্থার কথা জানান। গুতেরেস বলেন, ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে কূটনীতি, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সাধারণ পরিষদ বর্তমান ভূরাজনীতিতে হারিয়ে যাওয়া আস্থা ও সদিচ্ছা পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বে সাধারণ পরিষদ এমন একটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাজ করতে পারে, যেখানে বিশ্বের মানুষ আরও উন্নত, স্বাস্থ্যকর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পাবে।
বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব থাকা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন।
এমন একটি সময়ে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিকের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে যুদ্ধ, সংঘাত, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন অর্থায়ন নিয়ে বিশ্ব যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড. খলিলুর রহমান এমন এক সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যখন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে।
ফলে তাঁর নেতৃত্বে সাধারণ পরিষদে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা বাড়ানো, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্যেও এ বিষয়টির গুরুত্ব উঠে এসেছে। গুতেরেস আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন সভাপতির নেতৃত্বে কূটনীতি, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হারিয়ে যাওয়া আস্থা ও সদিচ্ছা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে। (United Nations Media)
৮০তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জার্মানির আনালেনা বেয়ারবককে তাঁর নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৮০তম অধিবেশনের নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নতুন পর্ব।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব শুধু একজন ব্যক্তির দায়িত্ব নয়; এটি সংশ্লিষ্ট দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন। ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ তাই বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি, সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ তৈরি করেছে।
এসআর