যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুমকি দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে
একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে ইরান। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি জানান দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তা ও আইআরজিসির সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়ী। পরবর্তীতে নিজের এক্স পেজেও বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
রেজায়ী জানান, হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন নৌবাহিনীকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে পারস্য উপসাগরজুড়ে সামুদ্রিক প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে ইরান। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে নিজস্ব কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটি।
ধারণা করা হচ্ছে, আইআরজিসি মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে কাসেম বসির নামে একটি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কৌশল এড়াতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো সফলভাবে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও বিমান হামলার কারণে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। তবে ভিন্নমত পোষণকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাঙ্কার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা এখনো আইআরজিসির রয়েছে।
এসআর