[email protected] বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক’ পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ ১২:৩৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের সাথে একটি ‘ঐতিহাসিক’ বেসামরিক পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন

 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

​অনুমোদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী, সৌদি আরব বেসামরিক প্রয়োজনে পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারবে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত সৌদিকে পরমাণু প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পরামর্শ সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে মার্কিন প্রশাসনকে কয়েক হাজার কোটি ডলার প্রদান করবে সৌদি আরব।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চুক্তির খসড়াটি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এটি পাস হলে চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে। প্রস্তাবিত খসড়ার সাথে ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামক একটি বিশেষ নথি যুক্ত করা হচ্ছে, যা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সহযোগিতার আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরবের পরমাণু খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

​তবে ট্রাম্পের অনুমোদিত এই চুক্তিতে পারমাণবিক সুরক্ষার কঠোর ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে চুক্তির আওতায় থেকেও সৌদি আরব চাইলে নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ ও ব্যবহৃত পরমাণু জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রক্রিয়া চালু রাখতে পারবে।

​এছাড়া জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) যেকোনো সময় প্রকল্প পরিদর্শনের অধিকার সম্পর্কিত ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ বা 'অ্যাডিশনাল প্রটোকল' নীতিটিও এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। বেসামরিক পরমাণু চুক্তিতে এই ধারাটি সাধারণত অপরিহার্য ধরা হলেও, প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে যে পরমাণু সুরক্ষার বিষয়গুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

​চুক্তিটি কংগ্রেসে পাস হলে ইউরেনিয়াম ক্রয় ও তা সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সামনে কোনো সরাসরি বাধা থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক তদারকি ছাড়া সৌদিকে অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দিলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে হাঁটবে।

​সাধারণত বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনাকারী দেশগুলো আন্তর্জাতিক তদারকির অধীনে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষমতা অর্জিত হলে পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার থামানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর