যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর
হুমকি দিলেও, বর্তমানে 'গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা' চলায় সেই হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছেন।
তবে ইরান সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন-ইসরাইলি হামলার কড়া জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ববর্তী দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের বিপরীত এবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরান 'স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র' মাত্রার কৌশল অবলম্বন করবে, যেখানে প্রতিদিন প্রতিপক্ষের ওপর শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হতে পারে।
ইরানের মূল রণকৌশল হবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো, তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করা। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে সহায়তা করার অভিযোগে ইরানের তীব্র হুমকির মুখে রয়েছে।
ইরানপন্থি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানলে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ করে দেবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একই সাথে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করাই এখন তেহরানের প্রধান লক্ষ্য।
এসআর