[email protected] মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বহুমুখী সংকটে ট্রাম্প প্রশাসন: যুদ্ধ, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের মুখে হোয়াইট হাউস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১১:৪৮ এএম

বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠিন সময় পার করছেন। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভ—সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউস এখন নানামুখী চাপে

 দিশাহারা। পরিস্থিতির জটিলতা ট্রাম্পের সামনের পথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে।

​গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। তেহরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মার্কিন মিত্ররা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান পিছু না হটলে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে, যা সরাসরি বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

​যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক মাসে প্রায় ৫০-৬০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করবে।

​সরকারের যুদ্ধনীতি, কঠোর অভিবাসন আইন এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে (নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস) লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। 'নো কিংস' নামক এই আন্দোলনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি উঠছে। হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও জনরোষ এখন ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

​আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ট্রাম্প চাপে আছেন। একদিকে সৌদি ও কাতারের মতো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে পরোক্ষ আলোচনা চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসছে না।

সামরিক সংঘাত, অর্থনৈতিক মন্দা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—এই তিন ফ্রন্টে ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে। যুদ্ধ ও কূটনীতির ভারসাম্য রক্ষা করে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ফেরানোই এখন হোয়াইট হাউসের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এসআর

সম্পর্কিত খবর