২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর এই প্রথম আবুধাবিতে এক
গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছে ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র।
তবে উভয় পক্ষের মূল দাবিতে অনড় অবস্থানের কারণে এই আলোচনা থেকে বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা এখন পর্যন্ত বেশ সীমিত।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও চ্যালেঞ্জ:
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি চুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া হবে উভয় পক্ষের জন্যই একটি 'বোকামি'। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাভোসে ট্রাম্পের সাথে আলোচনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও এখনই পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারছেন না।
৯০ বনাম ১০ শতাংশের লড়াই: প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মতে, শান্তি চুক্তির ৯০ শতাংশ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হলেও বাকি ১০ শতাংশই সবচেয়ে কঠিন। কারণ, রাশিয়া পুরো প্রস্তাবটিই প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
সীমানা বিরোধ ও 'রেড লাইন': মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল। রাশিয়া এই অঞ্চলের বড় একটি অংশ দাবি করলেও ইউক্রেন তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দনবাসের জন্য তাদের সেনারা জীবন দিচ্ছে, তাই এই ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া অসম্ভব।
রাশিয়ার অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ক্রেমলিন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আলোচনার টেবিলে তাদের শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধক্ষেত্রেই নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করবে।
যদিও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখেও তারা এখনো চূড়ান্ত সফলতা পায়নি, তবুও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিকল্পিত এবং ধ্বংসাত্মক হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আবুধাবিতে এই বৈঠককে শান্তির দিকে একটি ছোট পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, ভূখণ্ডগত বিরোধ এবং রাশিয়ার অনমনীয় মনোভাবই এখন শান্তির পথে প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: