২০২৬ সালের শুরুতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ২০২৫
সালের চরম বাণিজ্য যুদ্ধ এবং শুল্কের চাপ উপেক্ষা করে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা বিশ্ব ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে এই বিশাল সাফল্যই এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উত্তজনা ও শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১. মূল সংকট: ভারসাম্যহীনতা
অর্থনীতিবিদদের মতে, চীনের এই বিশাল উদ্বৃত্তের কারণ দুটি—পাহাড়প্রমাণ রপ্তানি এবং অত্যন্ত দুর্বল আমদানি।
রপ্তানি: মার্কিন বাজারে রপ্তানি কমলেও আফ্রিকা (২৫.৮% বৃদ্ধি), লাতিন আমেরিকা এবং আসিয়ান দেশগুলোতে চীনের প্রভাব ব্যাপক বেড়েছে। সাশ্রয়ী দাম ও উন্নত মানের কারণে চীনা পণ্য বিশ্ববাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে।
আমদানি: চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কম থাকায় এবং আবাসন খাতে ধসের ফলে আমদানি প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৫ শতাংশে স্থবির হয়ে আছে।
২. কেন এটি ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বিপজ্জনক?
অধ্যাপক ঈশ্বর প্রসাদের মতে, চীনের এই 'রপ্তানি-নির্ভর' মডেল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি শুধু উন্নত দেশ নয়, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর উৎপাদন খাতকেও প্রতিযোগিতায় টিকতে দিচ্ছে না। বিশাল এই বাণিজ্য ব্যবধান ট্রাম্পকে আবারও চীনের বিরুদ্ধে কঠোর 'শুল্ক অস্ত্র' ব্যবহারের অজুহাত করে দিতে পারে।
৩. বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
আইএমএফ ও ইইউ: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করেছেন যে, চীন যদি এই ভারসাম্যহীনতা দূর না করে, তবে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ চীনা পণ্যের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ ও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে বাধ্য হবে।
চীনের অবস্থান: চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম একে চীনের পরিশ্রম ও স্থিতিস্থাপকতার ফল বললেও, দেশটির নীতিনির্ধারকরা এখন আমদানির পরিধি বাড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছেন।
৪. সমাধানের পথে চীন
বাণিজ্যিক উত্তেজনা প্রশমনে চীন কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে:
ভর্তুকি প্রত্যাহার: সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি পণ্যের ওপর থেকে রপ্তানি কর সুবিধা (VAT Rebate) কমিয়ে আনা বা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
সমঝোতা: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্ক নিয়ে একটি ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার চুক্তিতে পৌঁছেছে বেইজিং।
৫. আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?
চীনের এই বিশাল আয় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করলেও, এটি চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাকেই প্রকট করছে। ২০২৬ সালে চীন তার রপ্তানি আয় কত দ্রুত অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে রূপান্তর করতে পারে এবং আমদানির দুয়ার কতটা উন্মুক্ত করে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।
এসআর
মন্তব্য করুন: