[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানি পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে—প্রথমবার স্বীকার ইরানের

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ৪:৩০ পিএম

ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সহিংসতায় অন্তত

 পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে দেশটির সরকার। রোববার দেশটির এক আঞ্চলিক পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা হতাহতের তথ্য যাচাই শেষে এই সংখ্যা নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচ শতাধিক সদস্য নিরাপত্তা বাহিনীর। তার দাবি, এসব প্রাণহানির পেছনে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সহিংস দাঙ্গাবাজদের ভূমিকা রয়েছে, যারা সাধারণ নাগরিকদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে।


তিনি আরও জানান, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সংঘাত সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয় এবং সেখানেই প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা রয়েছে এবং অতীতেও সেখানে সহিংসতার নজির দেখা গেছে।


সরকারি ওই কর্মকর্তা বলেন, যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ও বিদেশে অবস্থানরত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে।


ইরানের কর্তৃপক্ষ বরাবরই দেশটিতে অস্থিতিশীলতার জন্য বিদেশি শক্তিকে দায়ী করে আসছে। এর মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও সাম্প্রতিক সহিংসতায় বিদেশি উসকানির অভিযোগ তুলেছেন।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা তিন হাজার তিন শতাধিক ছাড়িয়েছে এবং আরও কয়েক হাজার মৃত্যুর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, আন্দোলন চলাকালে ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ সবচেয়ে সহিংস আকার ধারণ করে কুর্দি অধ্যুষিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে।


এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস এক প্রতিবেদনে ইরানি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের বড় একটি অংশ তরুণ এবং অধিকাংশ প্রাণহানি ঘটে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে।


চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে আরও জানানো হয়, বিক্ষোভ দমনে সামরিক মানের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। গুলিবর্ষণ ও শার্পনেলের আঘাতে বহু মানুষ চোখে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং শত শত মানুষ স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।


গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে সরকার পতনের আশঙ্কা তৈরি হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে বর্তমানে আন্দোলনের তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর