ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার
প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে ওই যুদ্ধজাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সূত্রে জানা গেছে, পাঠানো এ বিমানবাহী রণতরীর নাম ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। অঞ্চলটিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রতিবেশী কাতার, জর্ডান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এসব ঘাঁটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে পেন্টাগন।
গত ২৮ ডিসেম্বর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও তীব্র মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটির প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দেয়।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়।
পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও মাঠে নামানো হয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন যে, ইরান যদি আন্দোলন দমনে কঠোর সামরিক পন্থা অবলম্বন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানে যেতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্য কিছুটা সংযত, তবু সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি।
এসআর
মন্তব্য করুন: