শীতের আমেজের সাথে সাথে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি প্রতি বছরই বৃদ্ধি পায়। ১৯৯৮
সালে মালয়েশিয়ার সুঙ্গাই নিপাহ গ্রামে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাসটি বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি। বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রথম এই ভাইরাস ধরা পড়ে এবং এরপর থেকে প্রায় প্রতিবছরই শীত মৌসুমে এর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
সংক্রমণের উৎস ও কারণ
নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ফলখেকো বাদুড়। গবেষণায় দেখা গেছে:
বাদুড়ের লালা বা মলমূত্র যখন খেজুরের কাঁচা রসের সাথে মিশে যায়, তখন সেই রস পান করলে মানুষ আক্রান্ত হয়।
বাদুড়ের আংশিক খাওয়া ফলমূল বা দূষিত খাবার খেলে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ কিংবা আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।
লক্ষণ ও জটিলতা
ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তীব্র জ্বর, মাথা ও পেশিতে ব্যথা।
কাশি ও শারীরিক দুর্বলতা।
পরবর্তী পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং মস্তিষ্কে এনসেফালাইটিসজনিত জটিলতা।
সতর্কতা: এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা নেই। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুঝুঁকি অত্যন্ত বেশি এবং বেঁচে থাকলেও অনেকের স্থায়ী স্নায়বিক সমস্যা থেকে যায়।
প্রতিরোধে করণীয়
নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে সচেতনতাই একমাত্র পথ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী করণীয়গুলো হলো:
বিষয় করণীয়
খেজুরের রস কাঁচা রস পান করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। রস ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করা নিরাপদ।
খাবার বাদুড় বা পাখির আংশিক খাওয়া ফলমূল খাবেন না। যেকোনো ফল খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন।
পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন
রোগীর সেবা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচর্যায় মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই ব্যবহার করুন এবং কঠোর সতর্কতা মেনে চলুন।
পণ্য তৈরি খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড়, পায়েস বা পিঠা খাওয়া নিরাপদ।
নিপাহ ভাইরাস অত্যন্ত প্রাণঘাতী হলেও সঠিক সচেতনতার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
খেজুরের কাঁচা রস পান না করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এই সংক্রমণ থেকে বাঁচার প্রধান হাতিয়ার।
এসআর
মন্তব্য করুন: