[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

থাইরয়েড কোনো ভয়ের কারণ নয়: সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসায় সম্ভব স্বাভাবিক জীবন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ৮:৩৯ এএম

জানুয়ারি মাস বিশ্বজুড়ে ‘থাইরয়েড সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে থাইরয়েড

 একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই রোগটি নির্ণয় করতে পারেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং এবং নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে থাইরয়েড সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য।


​নারীরা বেশি ঝুঁকিতে
​পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় নারীদের থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার হার পাঁচ থেকে আট গুণ বেশি। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, প্রজনন বয়সী নারী এবং মেনোপজ পরবর্তী সময়ে নারীরা এই ঝুঁকির শীর্ষে থাকেন। এছাড়া পরিবারে থাইরয়েডের ইতিহাস থাকলে বা বয়স ৬০ বছরের বেশি হলে নিয়মিত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


​হাইপো বনাম হাইপার থাইরয়েডিজম: লক্ষণসমূহ
​থাইরয়েড সমস্যা সাধারণত দুই ধরনের হয়:
​হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কম তৈরি হওয়া): এর লক্ষণগুলো হলো দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভব করা, চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বিষণ্নতা।


​হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেশি তৈরি হওয়া): এর ফলে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, হাত কাঁপা, অস্থিরতা এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।
​এছাড়া গলায় ফোলাভাব বা গলগণ্ড এবং থাইরয়েড ক্যানসারও অন্যতম সমস্যা হতে পারে।


​নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি
​থাইরয়েড রোগ নির্ণয় অত্যন্ত সহজ এবং সাশ্রয়ী। সামান্য রক্ত পরীক্ষার (TSH, T3 ও T4) মাধ্যমেই এর কার্যকারিতা জানা যায়।


​হাইপোথাইরয়েডিজম: নিয়মিত হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি বা ওষুধের মাধ্যমে রোগী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকতে পারেন।
​হাইপারথাইরয়েডিজম: ওষুধ, রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন থেরাপি অথবা ক্ষেত্রবিশেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়।


​গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি
​অনিয়ন্ত্রিত থাইরয়েড গর্ভবতী নারী ও শিশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে গর্ভপাত, অকাল প্রসব এবং শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভধারণের আগে ও গর্ভাবস্থায় নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।


​প্রতিরোধের উপায় ও পরামর্শ
​থাইরয়েড স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাবার এবং সবুজ শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া সেলেনিয়াম ও জিংক সমৃদ্ধ খাবার থাইরয়েডের কার্যক্রমে সহায়ক। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এই রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর