[email protected] মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ছোটোবেলার ঈদ হারায় না, বদলে যায় শুধু অনুভূতির রং

বাবলু দেব, কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬ ১:৪৫ এএম

একসময় ঈদের আগের দিনগুলো যেন কাটতেই চাইত না।

বিকেলে কোরবানির পশুকে ঘাস খাওয়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে পাড়া ঘুরে গরু দেখা, নতুন জামা বারবার বের করে দেখা কিংবা সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডায় মেতে থাকা—সবকিছুর মধ্যেই ছিল অন্যরকম আনন্দ।

ছোট ছোট আয়োজনই তখন মনে হতো বিশাল সুখের উৎস।

সময় বদলেছে, মানুষ বড় হয়েছে। জীবনের ব্যস্ততা আর দায়িত্ব বেড়েছে। কিন্তু ঈদকে ঘিরে আবেগের জায়গাটা এখনো রয়ে গেছে, শুধু তার প্রকাশভঙ্গি পাল্টেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ এখন শুধুই নতুন পোশাকের আনন্দ নয়; বরং দীর্ঘ ব্যস্ততার পর পরিবারের কাছে ফেরার এক আবেগঘন উপলক্ষ।


দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমনই নানা অনুভূতির গল্প।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর কাদের জানান, ছোটোবেলায় ঈদ মানেই ছিল নতুন জামা, সালামি আর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর সীমাহীন আনন্দ। তবে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই উচ্ছ্বাস কিছুটা বদলে গেছে। এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আর প্রিয়জনদের সান্নিধ্যেই ঈদের সবচেয়ে বড় সুখ খুঁজে পান তিনি।


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ মিসবাহ বলেন, শৈশবের ঈদ ছিল উত্তেজনা আর অপেক্ষায় ভরা। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতা আর ব্যস্ততা জায়গা করে নিয়েছে। তবু পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া এখনো ঈদের সবচেয়ে আনন্দের অংশ।


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা ইশরাত অনন্যার ভাষায়, ছোটোবেলায় ঈদ মানেই ছিল নির্ভার আনন্দ। এখন জীবনের নানা দায়িত্ব ও চিন্তার কারণে সেই সরল উচ্ছ্বাস আগের মতো অনুভূত হয় না। তবুও ঈদ এলেই শৈশবের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায়।


তবে সবার অভিজ্ঞতা এক নয়। অনেকের কাছে ঈদের আনন্দ আজও আগের মতোই প্রাণবন্ত।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিবুল ইসলাম বলেন, কোরবানির পশু কেনা ও তার যত্ন নেওয়ার আনন্দ এখনো তাকে সমানভাবে টানে। ছোটোবেলায় বাবাকে দ্রুত গরু কেনার জন্য তাগাদা দিতেন, আর গরুকে গোসল করানো কিংবা খাওয়ানোর মধ্যেই খুঁজে পেতেন আনন্দ। বড় হওয়ার পরও সেই অনুভূতিতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি বলে জানান তিনি।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফরিন মঈন জয়ার কাছেও ঈদের আবেগ একই রকম রয়ে গেছে। তার ভাষায়, ছোটোবেলায় গরু কেনাকে কেন্দ্র করেই ঈদের আনন্দ শুরু হতো। কয়েকদিনের মধ্যেই পশুটির সঙ্গে এক ধরনের মায়া তৈরি হয়ে যেত, আর কোরবানির সময় পুরো পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ত। বড় হওয়ার পরও সেই অনুভূতি বদলায়নি।


শৈশবের ঈদ হয়তো আর আগের মতো ফিরে আসে না, কিন্তু তার স্মৃতিগুলো থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় মানুষের জীবন, বদলায় উৎসব দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও।

তবু পরিবারের কাছে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো আর পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ডুবে যাওয়ার মধ্যেই আজও ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ খুঁজে পান অনেকেই।

এসআর

সম্পর্কিত খবর