নিউইয়র্ক থেকে এম. এ. রনী: জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় নিউইয়র্কের ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কিশ হাউসে দুই নেতার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। (BSS)
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) জানিয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। (BSS)
সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার তাগিদ
বৈঠক সম্পর্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্সির যোগাযোগ অধিদপ্তরের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানো এবং দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। (İletişim Başkanlığı)
তুরস্কের সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও বৃহত্তর কূটনৈতিক সহযোগিতাও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। (İletişim Başkanlığı)
প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আলোচনা। তুরস্কের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের পরিধি অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বাইরে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ নতুন ক্ষেত্রে বিস্তৃত করার বিষয়টি এ আলোচনায় গুরুত্ব পায়। (İletişim Başkanlığı)
পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এরদোয়ান বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বাড়বে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর
বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। (BSS)
তুরস্কের প্রেসিডেন্টও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগানোর জন্য পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। (İletişim Başkanlığı)
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও সমন্বয়
বৈঠকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশি পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা দুই নেতা তুলে ধরেন। (BSS)
এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি কূটনীতি, প্রতিরক্ষা এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে দুই পক্ষের আগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে।
রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা
বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুও গুরুত্ব পায়। তুরস্কের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি এরদোয়ান প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আশ্রয়, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। (İletişim Başkanlığı)
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই তারেক রহমান ও এরদোয়ানের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে। (BSS)
এসআর