দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান-তদন্ত; কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ, কারও বিরুদ্ধে মামলা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের অভিযোগে ১৩ জন সাবেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তালিকায় সাবেক দুই সেনাপ্রধানসহ সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, এসএসএফ ও বিজিবির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের আওতায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও জেনারেল (অব.) এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আবদুল হান্নান, সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং সাবেক এনএসআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) তারিক মোহাম্মদ জোবায়ের।
এ ছাড়া সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, সাবেক এসএসএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মুজিবুর রহমান, সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাফিনুল ইসলাম, সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এম সিদ্দিকুর রহমান সরকার, মেজর জেনারেল (অব.) সালাহউদ্দিন মিয়াজী এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও রয়েছেন।
দুদক জানিয়েছে, অধিকাংশ অনুসন্ধান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শুরু হয়। কমিশন এসব পুরোনো ও চলমান অনুসন্ধান-তদন্ত দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সাবেক সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি হাজির হওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময় চেয়েছেন।
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর সম্পদের হিসাব যাচাইও করছে দুদক। আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যাংক ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
সাবেক এসএসএফ মহাপরিচালক মো. মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তাসরিন মুজিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা অনুমোদন করেছে দুদক। কমিশনের অনুসন্ধানে তাঁদের নামে যথাক্রমে প্রায় ২ কোটি ৭১ লাখ ও ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদ, তাঁর স্ত্রী ও শ্যালকের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তিনটি মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।
সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আবদুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা তদন্তাধীন। অন্যদিকে সাবেক বিজিবি প্রধান সাফিনুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সাবেক এনটিএমসি প্রধান জিয়াউল আহসান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা রয়েছে। সাবেক এনএসআই প্রধান তারিক মোহাম্মদ জোবায়েরের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।
এ ছাড়া সাবেক ডিজিএফআই প্রধান হামিদুল হক ও সাইফুল আলম, সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান এম সিদ্দিকুর রহমান সরকার, সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল সালাহউদ্দিন মিয়াজীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে অনুসন্ধান বা তদন্ত চলছে।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআর