[email protected] শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুবির ১৯ বিভাগের ৬টিতে নেই অধ্যাপক, ব্যাহত শিক্ষা-গবেষণা কার্যক্রম

বাবলু দেব, কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ ৭:৩২ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৯টি বিভাগের মধ্যে ছয়টি বিভাগ বর্তমানে কোনো অধ্যাপক ছাড়াই একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক না থাকায় এসব বিভাগে শিক্ষা, গবেষণা, থিসিস তত্ত্বাবধান ও একাডেমিক নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিভাগে অধ্যাপক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে তীব্র শিক্ষক ঘাটতিও।

অধ্যাপক না থাকা ছয়টি বিভাগ হলো—আইন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, নৃবিজ্ঞান এবং ফার্মেসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অর্গানোগ্রামে কুবিতে শিক্ষকের মোট পদ রয়েছে ৬৬০টি। এর মধ্যে অধ্যাপক ৭২, সহযোগী অধ্যাপক ১২৬, সহকারী অধ্যাপক ১৯৫ এবং প্রভাষকের পদ ২৬৭টি। তবে ইউজিসি থেকে অনুমোদিত বা ছাড়কৃত পদের সংখ্যা ২৭৪টি। এর মধ্যে অধ্যাপক পদ ১৭টি, সহযোগী অধ্যাপক ৩৬টি, সহকারী অধ্যাপক ৯৩টি এবং প্রভাষক ১২৮টি।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ২৮৬ জন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক ৬০, সহযোগী অধ্যাপক ৬৯, সহকারী অধ্যাপক ১১৮ এবং প্রভাষক ৩৯ জন। তবে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তিনজন অধ্যাপক ডেপুটেশনে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে কার্যকর অধ্যাপকের সংখ্যা ৫৭ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোয় অধ্যাপকরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিক্ষক হিসেবে বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণার নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণা পরিচালনা, উচ্চতর গবেষণায় তত্ত্বাবধান এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে কোনো বিভাগে দীর্ঘ সময় অধ্যাপক না থাকলে এর প্রভাব শিক্ষা ও গবেষণায় পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যাপক সংকটের পাশাপাশি কয়েকটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের সংখ্যাও অপ্রতুল। ফলে একাডেমিক ও গবেষণার বিভিন্ন কাজে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উচ্চতর গবেষণা, থিসিস ও একাডেমিক পরামর্শের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তাদের দাবি।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূইয়া বলেন, গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অধ্যাপকদের ভূমিকা রয়েছে। তার বিভাগে অধ্যাপক না থাকাকে তিনি একটি বড় সংকট হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে অধ্যাপক নিয়োগের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রভাষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।

নাঈম বলেন, বর্তমানে বিভাগে আটটি ব্যাচ চালু থাকলেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। ফলে অধ্যাপক ও অন্যান্য পর্যায়ের পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রকিব আহমেদ বলেন, অধ্যাপক না থাকায় গবেষণা, থিসিস এবং একাডেমিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কিছুটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানান, বিভাগে বর্তমানে ১১টি ব্যাচের বিপরীতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন আটজন শিক্ষক। এর বাইরে আরও পাঁচজন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। বিভাগে সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক থাকলেও অধ্যাপক থাকলে গবেষণা, থিসিস, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক একাডেমিক পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীরা আরও বেশি সহযোগিতা পেতেন বলে মনে করেন তিনি।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তর ভৌমিক জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে তাদের বিভাগে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে বিভাগে আটজন শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে চারজন শিক্ষা ছুটিতে থাকায় কার্যকর শিক্ষক সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে। আরও একজনের শিক্ষা ছুটির প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শিক্ষক সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিভাগে কোনো অধ্যাপক নেই। অথচ স্নাতকোত্তরসহ একাধিক ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে এতগুলো ব্যাচের ক্লাস ও পরীক্ষা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সেশনজটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অর্গানোগ্রামে অধ্যাপক পদ থাকলেও বর্তমানে বিভাগটি অধ্যাপকশূন্য। পাশাপাশি শিক্ষক সংকটও রয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত অধ্যাপক নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।

সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ বলেন, বিভাগে অধ্যাপক থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক। তাদের বিভাগে অধ্যাপক পদের একটি পদ রয়েছে। গত বছর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও পর্যাপ্ত আবেদন না পড়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোয়নি।

তিনি জানান, আগামী জানুয়ারিতে অধ্যাপক নিয়োগের উদ্যোগ রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং গবেষণার পরিবেশ শক্তিশালী করতে অধ্যাপকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক নিয়োগ করা হলে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য শিক্ষক উভয়েই তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থেকে উপকৃত হতে পারবেন।

তিনি বলেন, ইউজিসির অনুমোদন না থাকায় সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে ইউজিসির কাছে পাঠানো অর্গানোগ্রামে এসব বিভাগে অধ্যাপক পদ রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

উপ-উপাচার্য আরও বলেন, ইউজিসির অনুমোদন পাওয়া গেলে অধ্যাপকশূন্য বিভাগগুলোতে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর