[email protected] সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩

চারণভূমি হারাচ্ছে বিশ্ব, সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

মোঃ আলী আকবর রনী

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬ ৮:৩৪ পিএম

ঝুঁকিতে বিশ্বের অর্ধেক চারণভূমি, সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জাতি সংঘের মহাসচিবের। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক চারণভূমি (রেঞ্জল্যান্ড) বর্তমানে অবক্ষয়ের শিকার অথবা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এরই ফলে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে চারণভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধে বিশ্ব দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৭ জুন) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলে বিস্তৃত চারণভূমিগুলো পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেকজুড়ে রয়েছে। এসব ভূমি শুধু খাদ্য ও তন্তু উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উৎসই নয়, বরং দুই বিলিয়নেরও বেশি মানুষের জীবন ও জীবিকার ভিত্তি।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, চারণভূমি বিশ্বের অসংখ্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এগুলো বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত ব্যবহার, ভূমির অব্যবস্থাপনা এবং পানির সংকটের কারণে এসব ভূমি দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, চারণভূমির অবক্ষয় শুধু পরিবেশগত সংকটই সৃষ্টি করছে না, বরং বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এর ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কমছে জীববৈচিত্র্য এবং বাড়ছে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ।

বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, চারণভূমি রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এজন্য পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, বিশেষ করে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, মরুকরণ ও খরার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ কোনো একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই সীমান্ত অতিক্রমী সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই চারণভূমির অবক্ষয় রোধ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ বছর ‘আন্তর্জাতিক চারণভূমি ও পশুপালক বর্ষ’ (International Year of Rangelands and Pastoralists) হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে পশুপালক সম্প্রদায় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অর্জিত তাদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা চারণভূমি সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এসব জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীর জন্য শিক্ষণীয়। তাই চারণভূমি সংরক্ষণের পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বার্তার শেষাংশে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে আমাদের ভূমিকে রক্ষা করতে হবে।” তিনি বিশ্বের সব দেশ, প্রতিষ্ঠান ও জনগণের প্রতি চারণভূমি সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

তিনি আরো বলেন, আজকের বিনিয়োগ ও উদ্যোগই নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্ম একটি সুস্থ, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী পাবে কি না। তাই এখনই সময় ভূমি, প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর