কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক স্বল্পমেয়াদি ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে অনুপস্থিত থাকাকালেও তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পাঁচ দিনের ছুটি নেন ওই বিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম রুবেল।
তবে নির্ধারিত সময় শেষে তিনি আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। ইতোমধ্যে প্রায় তিন মাস ধরে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভর করছেন, যা পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ফেব্রুয়ারির শুরুতে চিকিৎসাজনিত কারণে ভারতে গেছেন বলে তিনি অবগত।
তবে অনুপস্থিত অবস্থায় বেতন উত্তোলনের বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁঞা বলেন, স্বল্পমেয়াদি ছুটি নিয়ে এত দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থেকে বেতন গ্রহণ করা নিয়মবহির্ভূত।
বিষয়টি আগে জানানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুপম দাস জানান, ঘটনার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বেতন বন্ধে ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এসআর