একসময় সংগীতাঙ্গনে দাপটের সঙ্গে বিচরণ করা কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।
প্রবাসে থাকলেও সংগীতচর্চা থেমে নেই তার। নিয়মিত গান রেকর্ডের পাশাপাশি মঞ্চে পারফর্ম করেও সময় কাটাচ্ছেন এই শিল্পী।
স্কুলজীবনে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রকাশিত তার প্রথম অ্যালবাম ‘হে যুবক’ শ্রোতাদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। আধুনিক গানের পাশাপাশি লোকগানেও তার কণ্ঠ আলাদা পরিচিতি তৈরি করে। একক অ্যালবাম মিলিয়ে তার প্রকাশিত গানের সংখ্যা ১৫টির বেশি।
কানাডা থেকে নিজের ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডলি সায়ন্তনী জানান, শুরুতে অল্প সময়ের জন্য গেলেও পরিস্থিতির কারণে সেখানে অবস্থান দীর্ঘ হয়েছে। এরপরই বাংলাদেশ থেকে হারমোনিয়াম ও প্রয়োজনীয় গানের নোট সংগ্রহ করে নিয়মিত রেওয়াজ শুরু করেন তিনি। বাসার কাছেই স্টুডিও থাকায় সেখান থেকেই নতুন গান রেকর্ড করে দেশে পাঠাচ্ছেন।
দেশের বাইরে থাকলেও শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, “শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও মনটা সবসময় দেশের সঙ্গেই থাকে।”
কানাডায় মঞ্চে পারফর্মের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী দর্শকদের সাড়া বরাবরের মতোই প্রাণবন্ত। গান শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই দর্শকরাই অনেক সময় পুরো গান গেয়ে ফেলেন—এই অনুভূতিটা তার কাছে বিশেষ ভালো লাগার।
পুরোনো জনপ্রিয় গান নতুনভাবে প্রকাশের চল নিয়ে ডলি সায়ন্তনী জানান, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তার দ্বিধা ছিল। তবে অন্য শিল্পীদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া দেখে তিনি নিজেও সিদ্ধান্ত বদলান। এরই মধ্যে তার জনপ্রিয় গান ‘হে যুবক’ নতুন সংগীতায়োজনে কণ্ঠ দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তার আরও পরিচিত গান নতুনভাবে প্রকাশ পাবে বলে জানান তিনি।
ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান এই শিল্পী। নিজের চ্যানেলে নিয়মিত গান প্রকাশের ইচ্ছা থাকলেও টেকনিক্যাল দিকগুলোতে সহযোগিতার প্রয়োজন অনুভব করছেন। ইতোমধ্যে তার মেয়েদের গাওয়া কয়েকটি গান প্রকাশ পেয়েছে এবং চ্যানেলটি ভালো সাড়াও পাচ্ছে।
তিন মেয়ে—কথা, রিমঝিম ও ফাইজা—সংগীতের প্রতি ভীষণ আগ্রহী জানিয়ে ডলি সায়ন্তনী বলেন, পড়াশোনার চাপের কারণে তিনি নিজেই অনেক সময় তাদের গান থেকে বিরত রাখেন। তবে ফাঁকে ফাঁকে নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফেরার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মেয়েদের পড়াশোনার কারণেই তাকে আপাতত কানাডায় থাকতে হচ্ছে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তাদের পাশে থাকা জরুরি। পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যস্ততার কারণে এই দায়িত্বটা মূলত তাকেই নিতে হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: