শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (সিইউবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এস এম জি ফারুক। তিনি সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
মাতৃভাষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা চর্চায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সাইফুল হক ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, গণমাধ্যমে মাতৃভাষার গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় ভাষার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বৈশ্বিক বাস্তবতায় মাতৃভাষার মর্যাদা অটুট রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং পেশাগত সাফল্যের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও জোর দেন।
স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর ড. জহুরুল আলম ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও জাতীয় পরিচয় গঠনে বাংলা ভাষার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার সংগ্রাম সুদৃঢ় হয় এবং ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম সিরাজুল হক ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ও আত্মত্যাগের চেতনা লালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁর মতে, মাতৃভাষার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জাতির অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। তিনি শিক্ষার্থীদের ভাষা চর্চায় সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
ইংরেজি বিভাগের প্রধান জনাব রেজিনা সুলতানা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও প্রক্টর জনাব হাসানুজ্জামান।
আলোচনা সভাটি ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য স্মরণ এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা অটুট রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: