ডিজিটাল নাগরিকতার গুরুত্ব, অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গ্রামভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সালমানপুরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী নারী-পুরুষ ও তরুণদের অংশগ্রহণে উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের সড়ক ও দোকানে পোস্টার বিতরণের মাধ্যমে প্রাথমিক সচেতনতা কার্যক্রম চালান শিক্ষার্থীরা।
বর্তমান সময়ে নিরক্ষর মানুষের পাশাপাশি শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীর মধ্যেও অপতথ্য ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ছবি, ভিডিও কিংবা তথ্য যাচাই না করেই শেয়ার করার ফলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ও ভিডিওকে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।
নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় ও বিরোধী পক্ষের সত্য-মিথ্যা তথ্য প্রচারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সহযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল নাগরিকতা, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও অপতথ্য যাচাই’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণ, তথ্য যাচাইয়ের বিভিন্ন কৌশল, ভুয়া খবর শনাক্ত করার উপায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিরাপদভাবে ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
পাশাপাশি ওয়েবসাইট যাচাই, কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধান, রিভার্স ইমেজ সার্চ এবং ছবি ও ভিডিওর অবস্থান বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা নিরূপণের পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হয়।
উঠান বৈঠকগুলো তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
প্রথম ধাপে মিসইনফরমেশন ও ভুল তথ্য কীভাবে তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে ডিজিটাল সিটিজেনশিপ নিয়ে আলোচনা করা হয়, যেখানে অনলাইন জগতে নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তৃতীয় ধাপে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ও ভিডিও শনাক্ত করার কৌশল তুলে ধরা হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে শেখানো বিষয়গুলোর ওপর একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই কর্মশালার মাধ্যমে তারা ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপদ ও সচেতনভাবে চলার বিষয়ে নতুন ধারণা পেয়েছেন। ভবিষ্যতে তথ্য যাচাই করে শেয়ার করার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকবেন বলেও তারা জানান।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। আগামীতেও গ্রাম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মামুন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে অপতথ্য ও ভুল তথ্য মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইন জগতে আমরা সবাই তথ্যের ভোক্তা। চারপাশে অপতথ্যের ছড়াছড়ি থাকলে সহজেই আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে যাচাই করে তথ্য গ্রহণ ও মূল্যায়নের মানসিকতা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করেছি।”
এসআর
মন্তব্য করুন: