জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ অনুসরণ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুনভাবে সাজানো এই মূল্যায়ন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় মূল্যায়নসংক্রান্ত পরিমার্জিত নির্দেশনা অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় এনসিটিবি ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ধারাবাহিক ও চূড়ান্ত মূল্যায়নের মধ্যে ভারসাম্য আনা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সব বিষয়ে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের ওজন সমানভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ। কিছু শ্রেণিতে প্রয়োজনে শুধু ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীর অগ্রগতি যাচাই করা হবে।
এই মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল জ্ঞান নয়, বরং দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করে অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম কাঠামো ও মূল্যায়ন নির্দেশিকার প্রশাসনিক অনুমোদন নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে মুখস্থনির্ভর শেখার প্রবণতা কমবে এবং বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়ের জন্যই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: