[email protected] শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

শেষ একনেকেও জাবিপ্রবি উপেক্ষিত

জাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ঘোষণায় ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রতিশ্রুতিতে ছিল আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন।

৫৩০ একর জমির ওপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।

প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) জন্য প্রণীত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এখনো একনেকের অনুমোদনের তালিকায় স্থান পায়নি।

২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করে।

শেখ হাসিনার মায়ের নামে নামকরণ করা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। সে সময় এটিকে দেশের অন্যতম আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তব উন্নয়ন আজও অধরা।


বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একটি পুরোনো ফিশারিজ কলেজের অবকাঠামো ব্যবহার করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মিত হয়নি উল্লেখযোগ্য কোনো একাডেমিক ভবন, গবেষণাগার বা আধুনিক ল্যাব। বিদ্যমান অবকাঠামোর বড় অংশই কলেজ পর্যায়ের।

নতুন সংযোজন বলতে কয়েকটি টিনশেড ভবন। ছাত্র ও ছাত্রী হল দুটি থাকলেও সেগুলোও কলেজ সময়কার। নাম ও পরিচয় বদলালেও বাস্তব কাঠামোতে পরিবর্তন আসেনি।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ৩০ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকলেও এর বড় অংশের আইনি ক্রয় ও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। অর্থাৎ যে জমির ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে ওঠার কথা, তার মালিকানাই এখনো নিশ্চিত নয়।


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুইজন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করলেও কেউই ডিপিপিকে একনেক অনুমোদনের পর্যায়ে নিতে পারেননি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেও পরিবর্তন আসে।

নতুন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, রাজনৈতিক চাপমুক্ত এই সময়ে অন্তত দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ডিপিপিটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ একনেক সভাতেও প্রকল্পটি স্থান পায়নি।


বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বের ৫৩০ একর জমির স্থায়ী ক্যাম্পাস পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বর্তমান প্রশাসন মাত্র ৩০ একর জমির ওপর নতুন নকশা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ এই ৩০ একর জমিরও একটি বড় অংশের আইনি প্রক্রিয়া এখনো ঝুলে আছে। এতে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাবিপ্রবির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।


ডিপিপি অনুমোদন ও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রতিবারই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে অগ্রগতি হয়নি।


২৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, প্রকল্পটি এখনো একনেকে অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।


তিনি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একনেকে পাঠানোর জন্য একটি নোট দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সম্মতি পেলে এটি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে মূল্যায়ন কমিটি গঠন, সরেজমিন পরিদর্শন, প্রকল্প উপস্থাপন ও সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ হলে তবেই একনেক সভায় তোলা সম্ভব হবে।


আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নতুন সরকার এই প্রকল্পকে কতটা গুরুত্ব দেবে? আট বছরে যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ডিপিপি অনুমোদনের প্রাথমিক ধাপই অতিক্রম করতে না পারে, তাহলে তার ভবিষ্যৎ পথচলা কতটা নিরাপদ?

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর