দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) এই ফলাফল প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি, পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (mopme.gov.bd) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (dpe.gov.bd)–এ দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী, যা এ পরীক্ষাকে দেশের অন্যতম বৃহৎ নিয়োগ পরীক্ষায় পরিণত করে।
তবে পরীক্ষা ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। পরীক্ষার আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ছড়ায়। কিছু ব্যক্তি ফেসবুকে প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেন। পাশাপাশি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয় তথাকথিত ‘ডিভাইস চক্র’, যারা অর্থের বিনিময়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের সহায়তা দিচ্ছিল।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে ২০৭ জন পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮ জন, দিনাজপুরে ১৮ জন, কুড়িগ্রামে ১৬ জন এবং রংপুরে ২ জন রয়েছেন।
এদিকে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষাটি বাতিলের দাবিতে কিছু চাকরিপ্রার্থী আন্দোলনও করেন। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যারা অনিয়মের চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুরো পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এসআর
মন্তব্য করুন: