[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

যবিপ্রবির আবাসিক হলে ফের ল্যাপটপ চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ৮:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আবাসিক হলে আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে।

মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের একটি কক্ষ থেকে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরপর একাধিক চুরির ঘটনায় প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।


রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ খোয়া যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহবাজ আহমেদ রিকি হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।


ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার কারণে রোববার সকাল ৯টার দিকে তিনি পরীক্ষা দিতে কক্ষ ত্যাগ করেন। তখন ল্যাপটপটি বন্ধ অবস্থায় কক্ষের টেবিলের ওপর রাখা ছিল। এ সময় তাঁর রুমমেট কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে রুমমেট ওয়াশরুমে যান এবং ফিরে এসে কক্ষ তালাবদ্ধ না রেখেই বাইরে চলে যান। পরীক্ষা শেষে শাহবাজ আহমেদ রিকি কক্ষে ফিরে এসে ল্যাপটপটি না পেয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন।


ঘটনার পরপরই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এমন ঘটনা আরও বাড়বে।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহবাজ আহমেদ রিকি বলেন, “পরীক্ষা শেষে রুমে ফিরে ল্যাপটপ অন করতে গিয়ে দেখি সেটি নেই। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানাই। আমার ল্যাপটপে থিসিসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ অনেক প্রয়োজনীয় ডাটা রয়েছে। কেউ যদি ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ে গিয়ে থাকেন, অনুরোধ করবো তা ফেরত দেওয়ার জন্য।


তিনি আরও বলেন, হলের প্রতিটি ফ্লোরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো জরুরি। হলে থেকেও যদি নিজের জিনিস নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ থাকবো?


এ বিষয়ে মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের প্রভোস্ট ড. মো. আব্দুর রউফ সরকার জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুইজন সহকারী হল প্রভোস্টকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কক্ষ তালাবদ্ধ না থাকায় চুরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি দুঃখজনক, বিশেষ করে এর আগেও একই হলে এমন ঘটনা ঘটেছে।


তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য সভা ডেকে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, এর আগে মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের ৩২০ নম্বর কক্ষ থেকেও এক শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর