[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

নিয়োগে অনিয়ম ও জাল সনদ অভিযোগ: বেরোবিতে দুদকের অভিযান

বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:৩৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ভুয়া সনদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর দুদকের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। অভিযানের শুরুতে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন দুদকের কর্মকর্তারা।
এরপর প্রশাসনিক ভবনসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করে দুদক টিম।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া কয়েকটি নিয়োগে বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য কমিশনের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুদকের উপপরিচালক শাওন মিয়া জানান, জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি গ্রহণের অভিযোগে ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন—এ তথ্য তাদের জানা আছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

যাচাই শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসায় দুদক অভিযান পরিচালনা করেছে। এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকেই গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সনদ জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় স্নাতকোত্তর সনদের সত্যতা না পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১১৪তম সিন্ডিকেট সভায় শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোছা. ইরিনা নাহারকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


এ ছাড়া বাংলা, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব এবং গণিত বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের নিয়োগ নিয়েও ২০২৪ সালে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এসব বিষয়ে একাধিক তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকলেও, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিয়ে রবিবারের অভিযানে সরাসরি তল্লাশি চালানো হয়নি বলে জানা গেছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর