[email protected] সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাজেট ২০২৬: প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ

সাইদুর রহমান

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬ ১:৫১ এএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা, উন্নয়ন কৌশল এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থান সংকটের মতো একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

গত কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে।

ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা।


একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান জরুরি। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সময়ের অন্যতম দাবি।


বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি।

তাই শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন।


কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগততা নিশ্চিত করাও বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম শর্ত।

করের আওতা বৃদ্ধি করতে হবে, তবে তা যেন সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে। কর ফাঁকি রোধ, রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব।


অন্যদিকে, বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। প্রতি বছরই উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, অপচয় এবং ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। তাই শুধু বড় আকারের বাজেট ঘোষণা নয়, বরং তার কার্যকর ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


সর্বোপরি, বাজেট ২০২৬ এমন হওয়া প্রয়োজন, যা একদিকে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখবে।

জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই বাজেটের সাফল্য নির্ধারিত হবে।

দেশের বর্তমান বাস্তবতায় একটি জনমুখী, বাস্তবসম্মত ও জবাবদিহিমূলক বাজেটই হতে পারে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও অগ্রযাত্রার প্রধান হাতিয়ার।

এসআর

সম্পর্কিত খবর