[email protected] রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩

ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান বজায়, আগস্টে রপ্তানি বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেনিম বাজারে বাংলাদেশ এখনো তার প্রধান সরবরাহকারীর

 স্থান ধরে রেখেছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি আয় কিছুটা কমলেও, আগস্ট মাসে অর্জিত প্রবৃদ্ধি রপ্তানিকারকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

​আট মাসের চিত্র ও আগস্টের পুনরুদ্ধার

​পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইইউর দেশগুলো মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৪০ শতাংশ কম। তবে শুধু আগস্ট মাসে ইইউর ডেনিম আমদানি ১১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৩ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ইউরোতে পৌঁছায়, যা ইউরোপের বাজারে চাহিদা ফেরার বড় ইঙ্গিত দেয়।

​এই সময়ে বাংলাদেশ ইইউতে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম সরবরাহ করেছে। ইইউর মোট ডেনিম আমদানির ২৯.৪০ শতাংশই এসেছে বাংলাদেশ থেকে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তান (৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো) এবং তুরস্ক (৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো)।

​চলতি বছরের প্রথম সাত মাস (জুলাই) শেষে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি পতন ৮.৫৯ শতাংশে থাকলেও, আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে আট মাস শেষে এই পতনের হার কমে ৫.৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে। আগস্ট মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউর আমদানি ১২.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা ইইউর গড় প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি। আগস্টে ইইউর বাজার অংশে বাংলাদেশের অবদান দাঁড়ায় ৩১.১৭ শতাংশ।

​আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের প্রভাব

​অন্যান্য সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক থেকে ইইউর আমদানি ২১.০৮ শতাংশ কমেছে, যার ফলে তুরস্কের বাজার শেয়ার হাতছাড়া হয়। এছাড়া মরক্কো, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া ও তিউনিসিয়া থেকেও আমদানি হ্রাস পেয়েছে। তবে তুরস্কের ছেড়ে দেওয়া বাজারের সুযোগ চীন, মিসর এবং ভিয়েতনাম লুফে নিয়েছে। মিসর থেকে ডেনিম আমদানি ৩১.৪৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৪৫.৩৮ শতাংশ এবং চীন থেকে ১৭.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

​ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

​ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবস্থান ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে কেবল দাম ও উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে টিকে থাকতে দ্রুত পণ্য সরবরাহ (lead time কমানো), ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নকশা ও নমনীয় উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর