আসন্ন পবিত্র রমজানে চিনির যোগান স্বাভাবিক রাখতে ও বাজারে স্বস্তি ফেরাতে দেশীয় চিনি
উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনকে (বিএসএফআইসি) আখের বকেয়া দাম পরিশোধ ও মিলের কর্মচারীদের পাওনা মেটাতে মোট ১৫০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এই অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়, যা অর্থ বিভাগের গত সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার আলোকে চূড়ান্ত হয়েছে।
ঋণের সুনির্দিষ্ট বণ্টন ও ব্যবহার
মোট ১৫০ কোটি টাকা ঋণ থেকে সরকারি চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকট কাটাতে দুটি প্রধান খাতে অর্থ খরচ করা হবে:
১০০ কোটি টাকা: ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমে আখচাষিদের আখের বকেয়া পাওনা পরিশোধে ব্যবহার হবে। এতে চাষিরা লাভবান হবেন এবং মিলগুলোতে উৎপাদন সচল থাকবে।
৫০ কোটি টাকা: বিএসএফআইসির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটি এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া মেটাতে ব্যয় করা হবে।
বর্তমান বাজার ও রমজানের গুরুত্ব
রমজান মাসে ইফতার, শরবত ও মিষ্টান্ন তৈরির কারণে দেশে চিনির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সুযোগে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে দেশীয় সরকারি চিনির সরবরাহ বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে দেশের চিনির বাজারে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে:
পাইকারি বাজার (খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই): এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা বেড়ে বর্তমানে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭৮০ টাকায়।
খুচরা বাজার: ঢাকায় কেজিপ্রতি চিনির দাম পৌঁছেছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি মিলের উৎপাদিত চিনি বাজারে সরবরাহ করা গেলে বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর পাশাপাশি বাজারে একটি শক্তিশালী বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা তৈরি হবে।
বিএসএফআইসি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতি, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও লোকসানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, কেবল সরকারি তহবিল বা ঋণ দিয়ে লোকসানি কোনো খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তদারকি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বাজারে স্বস্তি দিতে সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। এ জন্য দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর সাথে সাথে প্রয়োজনে চিনির আমদানি নিশ্চিত করে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
এসআর