যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক ঘোষণা এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির
ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি জানান, এই বিষয়গুলো এখনো 'বিকাশমান' পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকার গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত আগের ট্যারিফ অবৈধ ঘোষণা করার পর নতুন করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা শোনা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা লিখিত নথি আসেনি।
বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা: বিগত সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। চুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক বিশ্লেষণ করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা: চুক্তির বিষয়ে কোনো তথ্য গোপন করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আলোচনার সময় কিছু 'নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট' ছিল। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এই মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
বাজার পরিস্থিতি ও রমজান: নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মন্ত্রী জানান, আমদানি করা পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও রমজানের শুরুতে অতিরিক্ত কেনাকাটার হিড়িকের কারণে সবজির দাম সাময়িকভাবে বেড়েছিল। তবে বর্তমানে দাম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, অতীতে শুধু আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার এটি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দেখাবে।
"যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইউএস কংগ্রেসের অনুমোদনসহ আইনি অনেক ধাপ বাকি আছে। আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি।" — খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বাণিজ্যমন্ত্রী
এসআর
মন্তব্য করুন: