আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রবাসী আয়ে
(রেমিট্যান্স) বড় ধরনের ইতিবাচক প্রবাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একক মাস হিসেবে এই পরিমাণ রেমিট্যান্স বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত বড় উৎসব বা নির্বাচনের আগে প্রবাসীদের পরিবারে বাড়তি খরচের প্রয়োজন পড়ে, যার ফলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বৃদ্ধি পায়। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার, যা ছিল একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশের ইতিহাসে মাসিক সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ডটি গত বছরের মার্চের (৩২৯ কোটি ডলার)।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির মূল কারণসমূহ:
ভোট ও উৎসব: নির্বাচন ও রমজান উপলক্ষে প্রবাসীদের পরিবারের বাড়তি ব্যয়ের চাহিদা।
স্থিতিশীল বিনিময় হার: গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা।
হুন্ডি প্রতিরোধ: অর্থ পাচার কমে আসায় অবৈধ হুন্ডি কারবারিদের তৎপরতা কমেছে এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) মোট ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.৬২ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৮ বিলিয়ন ডলার)।
রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: