চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে
খাদ্যশস্য, সার ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল বোঝাই বিপুলসংখ্যক জাহাজ সময়মতো পণ্য খালাস করতে না পেরে সাগরে অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, লাইটার জাহাজ সংকট ও দুর্বল ব্যবস্থাপনাই এই অবস্থার মূল কারণ।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বহির্নোঙরে ৮০টির বেশি মাদার ভেসেল অপেক্ষমাণ রয়েছে, যেগুলোতে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি পণ্য রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব পণ্য খালাস সম্ভব না হওয়ায় আমদানিকারকদের প্রতিদিন বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও শিপ হ্যান্ডলিং সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, অনেক আমদানিকারক লাইটার জাহাজগুলোকে নিয়মিত খালাসে ব্যবহার না করে দীর্ঘদিন পণ্য বোঝাই অবস্থায় রেখে দিচ্ছেন। ফলে এসব জাহাজ কার্যকরভাবে পুনরায় বহির্নোঙরে ফিরতে পারছে না, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
সাধারণত একটি বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে যেখানে এক সপ্তাহের মতো সময় লাগে, সেখানে বর্তমানে সেই সময়সীমা বেড়ে ২০ থেকে ৩০ দিনেও পৌঁছাচ্ছে। এমনকি কিছু জাহাজ কয়েক দিন ধরে কোনো পণ্যই খালাস করতে পারছে না।
শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, বহির্নোঙরে প্রতিটি বড় জাহাজকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫–১৬ লাখ টাকা ড্যামারেজ দিতে হচ্ছে। এতে আমদানির খরচ বাড়ছে এবং এর প্রভাব বাজারেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা জানান, স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে প্রতিদিন অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি লাইটার জাহাজ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি। অপরদিকে কর্তৃপক্ষ কুয়াশা ও সার পরিবহনে জাহাজ ব্যবহারের কথা বললেও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সমস্যার মূল শিকড় রয়েছে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায়।
সংকট কাটাতে জাহাজ বরাদ্দে শৃঙ্খলা ফেরানো, লাইটার জাহাজের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং খালাস ব্যবস্থায় উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: