[email protected] শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

পাঁচ বড় ঝুঁকির মুখে দেশের অর্থনীতি, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে সংকট বাড়তে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ৯:১৮ এএম

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চাপে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি

শুল্ক ও বিনিয়োগে কড়াকড়ির প্রভাবের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও ঋণের বোঝা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।


সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নে চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ।

এসব ঝুঁকির প্রভাব কেবল আন্তর্জাতিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়ছে রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন নতুন বাধা তৈরি করছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করা উদীয়মান অর্থনীতির জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় বাংলাদেশ এসব পরিবর্তনের কারণে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।


সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির টানাপোড়েন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাঁর ভাষায়, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র–চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন—এসব কারণে আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।


ডব্লিউইএফের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিতে তৃতীয় বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং শিল্প ও ব্যবসা খাতে উৎপাদন খরচও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


চতুর্থ ঝুঁকি হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি।

বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ একসঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে। পঞ্চম ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে ঋণের বাড়তে থাকা বোঝা। সরকারি, বেসরকারি ও পারিবারিক—সব পর্যায়েই ঋণ বাড়ছে। বাজেটে সুদ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হওয়ায় উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব ঝুঁকি একে অপরের সঙ্গে জড়িত। অপরাধ ও অবৈধ অর্থনীতি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে, ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বাজার সংকুচিত করে, আর মূল্যস্ফীতি ও ঋণের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। সময়মতো ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে সুশাসন জোরদার, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা না করলে সামনে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর