১. মূল ক্ষয়ক্ষতি ও জরিপের পূর্বাভাস জরিপের তথ্য: জাইকা (JICA) ও সিডিএমপি
(CDMP)-এর যৌথ জরিপ অনুযায়ী, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য প্রাণহানি: রাজধানীতে ৬ থেকে ७ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: এই ধরণের দুর্যোগে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলারে।
ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন: ঢাকার ২১ লাখ বাসযোগ্য স্থাপনার মধ্যে ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবন রয়েছে, যার প্রায় ৪০ শতাংশই চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
২. ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি ও সক্রিয় ফল্ট লাইন
ডাউকি ফল্ট: ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যুতিটি দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
অন্যান্য ফল্ট লাইন: আরাকান ফল্ট, নোয়াখালী-সিলেট প্লেট বাউন্ডারি এবং সিলেট-কাছাাড় প্লেট বাউন্ডারিগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকায় বড় কম্পনের ঝুঁকি বাড়ছে।
৮ মাত্রার পুনরাবৃত্তি চক্র: বাংলাদেশে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ বা চক্র রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পর পর ফিরে আসে।
অতীতের বড় ভূমিকম্প: ১৭৬২ সালে আরাকান অঞ্চলে প্রায় ৮ মাত্রার এবং ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে ৮.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা: বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারীর মতে, অতীতের ১৮৬৯, ১৮৮৫, ১৯১৮ ও ১৯৩০ সালের ভূমিকম্পগুলোর সময়কাল বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে এখন যেকোনো সময় ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে।
৩. মানবসৃষ্ট কারণ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
মূল প্রবাদ: প্রকৌশলবিদ্যার বহুল প্রচলিত উক্তি—‘ভূমিকম্প মানুষ মারে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে মারে।’
ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ: বিল্ডিং কোড বা নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং তদারকি সংস্থাগুলোর গাফিলতি।
বিশ্বের চিত্র: ইউএসজিএস (USGS)-এর তথ্যমতে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে ৫৫টি এবং বছরে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ১৫ থেকে ১৬টি বড় ভূমিকম্প ঘটে।
৪. জরুরি করণীয় পদক্ষেপ
দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে তালিকা প্রস্তুত করা।
ভবন নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
এসআর