[email protected] শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ঢাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬ ১২:১৪ পিএম

১. মূল ক্ষয়ক্ষতি ও জরিপের পূর্বাভাস ​জরিপের তথ্য: জাইকা (JICA) ও সিডিএমপি

 (CDMP)-এর যৌথ জরিপ অনুযায়ী, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

​সম্ভাব্য প্রাণহানি: রাজধানীতে ৬ থেকে ७ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

​অর্থনৈতিক ক্ষতি: এই ধরণের দুর্যোগে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলারে।

​ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন: ঢাকার ২১ লাখ বাসযোগ্য স্থাপনার মধ্যে ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবন রয়েছে, যার প্রায় ৪০ শতাংশই চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

​২. ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি ও সক্রিয় ফল্ট লাইন

​ডাউকি ফল্ট: ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যুতিটি দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

​অন্যান্য ফল্ট লাইন: আরাকান ফল্ট, নোয়াখালী-সিলেট প্লেট বাউন্ডারি এবং সিলেট-কাছাাড় প্লেট বাউন্ডারিগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকায় বড় কম্পনের ঝুঁকি বাড়ছে।

​৮ মাত্রার পুনরাবৃত্তি চক্র: বাংলাদেশে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ বা চক্র রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পর পর ফিরে আসে।

​অতীতের বড় ভূমিকম্প: ১৭৬২ সালে আরাকান অঞ্চলে প্রায় ৮ মাত্রার এবং ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে ৮.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল।

​বিশেষজ্ঞের সতর্কতা: বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারীর মতে, অতীতের ১৮৬৯, ১৮৮৫, ১৯১৮ ও ১৯৩০ সালের ভূমিকম্পগুলোর সময়কাল বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে এখন যেকোনো সময় ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে।

​৩. মানবসৃষ্ট কারণ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

​মূল প্রবাদ: প্রকৌশলবিদ্যার বহুল প্রচলিত উক্তি—‘ভূমিকম্প মানুষ মারে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে মারে।’

​ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ: বিল্ডিং কোড বা নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং তদারকি সংস্থাগুলোর গাফিলতি।

​বিশ্বের চিত্র: ইউএসজিএস (USGS)-এর তথ্যমতে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে ৫৫টি এবং বছরে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ১৫ থেকে ১৬টি বড় ভূমিকম্প ঘটে।

​৪. জরুরি করণীয় পদক্ষেপ

​দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে তালিকা প্রস্তুত করা।

​ভবন নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।

​সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর