কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দিনদুপুরে একটি মাছের চালান লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে।
এ সময় মাছ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডারও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার সকালে দাউদকান্দি থানার ইলিয়টগঞ্জের পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকার মোস্তফা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা প্রধানের কাছ থেকে ৪৬৫ কেজি মাছ কেনেন এক ক্রেতা। মাছের মধ্যে ছিল রুই, তেলাপিয়া ও কার্ফু।
এসব মাছের মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা।
ক্রেতা মামুন তার মালিককে আড়তদার মোস্তফার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কলে মাছ দেখান।
পরে মাছের মূল্য পরিশোধের জন্য মোস্তফা তার ব্যাংক একাউন্ট নম্বর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামুনের মালিক ব্যাংক একাউন্ট থেকে মোস্তফার পূবালী ব্যাংকের একাউন্টে ৮০ হাজার টাকা পাঠায়। বাকী ৯ হাজার ৬০০ টাকা রাতে দিবেন বলে রফাদফা হয়। ৮০ হাজার টাকার স্কিনশর্ট এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
টাকা পাঠানোর পর মামুন মাছসহ অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ একটি গাড়িতে তোলেন। পরে মাছের চালান নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
অভিযোগ করা হয়েছে, কিছুদূর যাওয়ার পর ৮ থেকে ১০ জন স্থানীয় সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় তারা গাড়ি থেকে মাছের পুরো চালান নামিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা।
একই সঙ্গে মাছগুলো জীবিত রাখার জন্য গাড়িতে থাকা একাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডারও নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটলেও মাছের চালান ও অক্সিজেন সিলিন্ডার উদ্ধারে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনার সঙ্গে মাছের আড়তের মালিক মোস্তফা প্রধানের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে মাছ কেনার রসিদ, ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।
ক্রেতা মামুন জানান, মাছ কেনার পর নিয়ম অনুযায়ী টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং আড়তদারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণও রয়েছে।
এরপর মাছ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরই মোস্তফার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মাছ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাছের ক্রেতা।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে মোস্তফা প্রধানকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।
এসআর