দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরাতে শুরু প্রক্রিয়া।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুদকের দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলার প্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ গত ১২ জুন অভিযান চালিয়ে বেনজীর আহমেদকে আটক করে। পরে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ২৮তম মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের তদন্তে দেশে ও বিদেশে তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পদ গোপন রাখা, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেনামি বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তদন্তের এক পর্যায়ে আদালতের নির্দেশে তার একাধিক ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার এবং স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়।
দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হলে সংশ্লিষ্ট আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই তিনি সপরিবারে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিদেশে অবস্থান করছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা ছিল।
পরে বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। পুলিশ সদর দপ্তর ২০২৫ সালেই রেড নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে।
তবে দুবাই কর্তৃপক্ষ কিংবা ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
এসআর