পটুয়াখালীর বাউফলের বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের বিক্ষোভের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছে নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত এক সভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফেরিতে ওঠেন। সভাটির আয়োজন করেন বাউফল আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তবে মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা।
প্রায় ৪৫ মিনিট পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সেতুমন্ত্রী ফের একই পথে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান এবং পরে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।
ঘটনাস্থলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন দলের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীর অংশগ্রহণ ঠেকাতেই এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিএনপির স্থানীয় নেতারাও আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে উপজেলা বিএনপির এক নেতা জানান, সভার ব্যানারে দলীয় শীর্ষ নেতার ছবি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বাউফলের লোহালিয়া নদীতে বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আগের সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটির অগ্রগতি থেমে যায়। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রীকে এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
ঘটনার পর প্রস্তাবিত সেতু প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এসআর