রংপুরের পীরগঞ্জে প্রেমিকা সান্তনা বেগম (৩০) ও তার গর্ভের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে আসামি মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের
বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানারও আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার হামিম পোশাক কারখানায় কাজের সূত্রে বগুড়ার সান্তনা বেগমের সঙ্গে রংপুরের পীরগঞ্জের মোনাইল গ্রামের মাসুদ মিয়ার পরিচয় হয়। প্রথমে তাদের মধ্যে দুলাভাই-শ্যালিকার সম্পর্ক তৈরি হলেও পরে তা প্রেমে গড়ায় এবং তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। একপর্যায়ে সান্তনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে বিয়ের চাপ দিলে মাসুদ কৌশলে এড়িয়ে পীরগঞ্জে চলে আসেন। ২০২৩ সালের ১২ জুলাই সান্তনা বিয়ের দাবিতে পীরগঞ্জে মাসুদের বাড়িতে যান। পরদিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাসুদ তাকে ডেকে নিয়ে একটি আখক্ষেতে গলায় পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর পেটে লাথি মারলে মৃত কন্যা সন্তান প্রসব হয়।
২০২৩ সালের ১৩ জুলাই পীরগঞ্জের একটি আখক্ষেত থেকে অজ্ঞাতনামা নারী ও শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় পীরগঞ্জ থানা মামলা দায়েরের পর র্যাব গাজীপুর থেকে মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মাসুদ এবং তদন্তে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আফতাব উদ্দিন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহমেদ শাহীন জানান, তারা ন্যায়বিচার পাননি এবং পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি বিশ্লেষণ করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
এসআর