আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার পর শিল্পাঞ্চল গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকায় ঘরমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে।
এর প্রভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের ধীরগতির কারণে এই যানজটে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকেই সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, টঙ্গী ও শ্রীপুর এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে হেমায়েতপুর, আশুলিয়া, বিশমাইল, নবীনগর, বাইপাইল, টঙ্গী ও শ্রীপুরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায় যাত্রী ও শ্রমিকদের দীর্ঘ সারি। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
নির্বাচনী ছুটিকে ঘিরে এই যাত্রা অনেকটাই ঈদের সময়ের যাত্রীচাপের মতো রূপ নিয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাপের সুযোগ নিয়ে কিছু পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করছে। তবে ভোটের আগে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর তাগিদেই বাড়তি কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছেন তারা।
একযোগে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক শিল্পাঞ্চল ত্যাগ করায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে বাইপাইল-চন্দ্রা অংশ, টঙ্গী স্টেশন রোড এবং শ্রীপুর সংযোগ সড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
যানজট পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তারা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ছুটির শেষ দিকগুলোতে যদি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জোরদার না করা হয়, তাহলে শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক মহাসড়কগুলোতে যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: