[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

রায়পুরায় গুলিতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধসহ মোট ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্য মোতায়েন করা হয়।


নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে। সে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫)-এর নাম জানা গেছে।

অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়দাবাদ চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে দ্বন্দ্ব চলছিল।

এর আগেও একাধিক দফা সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এলাকাটিতে এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া।


এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ পক্ষের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার ছোড়া গুলিতে মুস্তাকিম আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।


নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে উঠোনে দাঁড়িয়ে ছিল। তখনই গুলি লাগে। আমরা কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নই। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।


রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে দেখা যায় গুলি তার শরীরের বাম পাশ দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।


রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর