জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো একটি রাজনৈতিক দলকে আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় করার পরিকল্পিত উদ্যোগ চলছে।
বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের বিষয় নয়, বরং এটি জনগণের মতামত জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট। ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, যারা টানা ১৭ বছর রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তাদেরই আবার রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
শ্রীমঙ্গলের ভোটচর্চার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ ভোটের দিনটিকে উৎসব হিসেবে দেখে। একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার এই সংস্কৃতি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য অনুকরণীয় এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
তিনি জানান, মৌলভীবাজার-৪ আসনে এনসিপির মনোনীত ‘শাপলা’ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ১১ দলীয় জোট শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ১০০ টাকা এবং শিক্ষা শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ৬০ টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এই দাবিকে আন্দোলনে রূপ দেওয়া হবে।
বর্তমান মজুরি কাঠামো দিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের জীবনমান উন্নয়নে এনসিপি কাজ করবে। পাশাপাশি কৃষকদের ভূমির অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, একটি রাজনৈতিক পক্ষ তত বেশি আগ্রাসী আচরণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি জোটভুক্ত একটি দলের স্থানীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতের মতো হামলা-মামলা ও সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এবার ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় মাঠে থাকবে।
ভোটের দিন নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জোট সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।
একটি দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নিপীড়নের পরও তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের বিচার হলে সেটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ন্যায্য মজুরি, ঘুষমুক্ত প্রশাসন, ব্যাংক লুট ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এসআর
মন্তব্য করুন: