[email protected] শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছের ৫০ প্রজাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:১৬ পিএম

রংপুরের মৎস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত কাউনিয়া উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে মিঠাপানির

 কয়েক ডজন দেশি প্রজাতির মাছ। এক সময়ের প্রবাদ ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ এখন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার এবং কৃষিজমিতে রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

​বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় যারা:
​কাউনিয়ার তিস্তা, মানাস ও বুড়াইল নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে এক সময় শতাধিক প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে পুঁটি, খলিশা, ভেদা, বাইম, কৈ, মাগুর, শিং, টেংরা, পাবদা, সরপুঁটি এবং শোলসহ প্রায় অর্ধশত প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে।

​মাছ হারিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণসমূহ:

​নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার: ‘চায়না দুয়ারী’ এবং ‘রিং জালের’ মতো প্রাণঘাতী জালের মাধ্যমে মা মাছ ও ডিম নষ্ট করা হচ্ছে। কারেন্ট জালের প্রভাবে রেণু পোনা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মাছের বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

​রাসায়নিক ও দূষণ: ফসলের জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার বৃষ্টির পানির সাথে মিশে জলাশয়ের পানি দূষিত করছে, যা মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করছে।

​জলাশয় ভরাট: অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং পলি জমে নদী-নালা ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

​সচেতনতার অভাব: মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা তৈরির অভাবকেও দায়ী করছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

​স্থানীয় মৎস্যজীবীদের হাহাকার:

​মৎস্যজীবী নরজিৎ ও ভোলারাম দাসের মতে, এক সময় তারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন সারাদিন চেষ্টা করেও আশানুরূপ মাছ মিলছে না। বাজারে যেটুকু দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
​বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও উত্তরণের পথ
​পরিবেশ ও মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে অবিলম্বে:

১. মুক্ত জলাশয়গুলোতে অভয়াশ্রম তৈরি করতে হবে।

২. নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

৩. প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. কৃষি কাজে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

দেশি মাছ কেবল রসনার তৃপ্তি মেটায় না, এটি আমাদের আমিষের বড় উৎস। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগই পারে কাউনিয়ার এই হারানো মৎস্য ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর