[email protected] শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

সাভারের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড: ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় জানাল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:০০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ঘিরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে তদন্ত।

ভবঘুরে পরিচয়ে চলাফেরা করা আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির আসল নাম সবুজ শেখ।


মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সবুজ শেখ মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি পান্না শেখের ছেলে।


পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ কিংবা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নামে পরিচয় দিত। তবে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তদন্তে তার প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—নিজ পরিচয় গোপন করে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন সবুজ শেখ। পরবর্তীতে ঈর্ষা বা সন্দেহের বশে তাদের হত্যা করতেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এবং ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়িতে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে কয়েকদিন আগে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যান অভিযুক্ত। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্কের জেরে প্রথমে যুবককে এবং পরে তরুণীকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর দুজনের মরদেহ একত্রে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।


আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।


এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে কাঁধে করে মরদেহ বহন করতে দেখা যাওয়া তরুণীর পরিচয়ও শনাক্ত করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, নিহত তরুণীর নাম তানিয়া আক্তার। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং রাজধানীর উত্তরায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। গত ১ জানুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।


পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাভার মডেল থানার আশপাশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজা মোড় এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং সেখানেই রাত যাপন করতেন।


তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি নিজের নাম ও ঠিকানা হিসেবে যে তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামের সঙ্গে মিল রেখে নিজের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। পুলিশের ধারণা, তিনি মানসিকভাবে বিকৃত ও সাইকোপ্যাথিক প্রবণতার অধিকারী।


উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে ওই কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় একাধিক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও আটক করা হয়।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর